ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২ অক্টোবর ২০২৫
  • অন্যান্য

রাজশাহীর প্রাচীন যে মন্দির থেকেই সর্বপ্রথম শুরু হয় দুর্গাপূজা

Rajshahi Mail
অক্টোবর ২, ২০২৫ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ । ১২৭ জন

আজ বুধবার মহানবমী, কুমারী পূজা, দেবীর আরাধনা, বিশেষ করে মহিষাসুর বধের চূড়ান্ত যুদ্ধের স্মরণে কুমারী বা কন্যা পূজা, যা দেবী সিদ্ধিদাত্রীর আশীর্বাদ লাভের জন্য করা হয়। এ ছাড়াও নিরামিষ খাবার তৈরি করা, যা সাধারণত পোলাও, মটর পনির এবং বুটের ডাল দিয়ে তৈরি হয়, এবং নবমীর রাতে বিশেষ পোশাক পরিধান করে উৎসবের শেষ আনন্দ উপভোগ করা হয়। নবমীর দিনটি দুর্গাপূজার মূল পর্বের প্রায় শেষ পর্যায়, তাই এটি আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে আসে।

শারদীয় দুর্গোৎসব এর শুরুটা এই উপমহাদেশেই, রাজশাহীর বাগমারার তাহেরপুর দুর্গামন্দিরের ইতিহাসে জানা যায়, রাজা কংস নারায়ণ রায় বাহাদুর ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে (৮৮৭ বঙ্গাব্দ) মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়ে।

রাজা কংস নারায়ণ সেই সময় প্রায় ৮ থেকে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্গাপুজার শুভসূচনা করেছিলেন বলে ইতিহাসে সংরক্ষিত আছে।

আরও কথিত আছে কংস নারায়ণের পরবর্তী চতুর্থ পুরুষ লক্ষ্মী নারায়ণের সময় বারনই নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ছিল।পরে রাজা কংসের প্রাসাদ ধ্বংস হয়ে যায়। ১৮৬২ সালে রাজ্য বীরেশ্বর রায়ের স্ত্রী রানী জয় সুন্দরী রাজবাড়ির সঙ্গে একটি দুর্গামন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরের নামফলকটি বর্তমানে রাজশাহীতে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

মহানবমী সগৌরবে মহাআয়োজনের মধ্যে দিয়ে ভক্ত অনুরাগীদের পদচারণায় মুখরিত তাহেরপুরের ১৪ টি পূঁজা মন্ডপ।ঐতিহাসিক স্থানটি দেখার উদ্দেশ্যও দর্শনর্থীরা ভিড় করছে।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্ত ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সন্ধ্যায় ছিল তীব্র ভিড়।

পূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথ রাখা, ব্যাগ ব্য থলে নিয়ে প্রবেশ না করা, সিসি ক্যামেরাসহ তদারকি যন্ত্র স্থাপন, পর্যাপ্ত আলো ও স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর রাখা, স্বেচ্ছাসেবকদের আলাদা পোশাক ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করা এবং আতশবাজি ও পটকা না ফোটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত রুট অনুসরণ ও অন্য ধর্মাবলম্বীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকারও পরামর্শ দেয় উপজেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে উৎপল নামের এক দর্শনার্থী বলেন প্রতিবছরে আমরা তাহেরপুরে দূর্গা মাতা মন্দির পরিদর্শনে পরিবার নিয়ে আসি এবং এবারও এসেছি খুব ভালো লাগছে,আইন শৃঙ্খলা ভালো আছে, আশা করি এভাবেই পুজোটা শেষ হবে।

দুর্গামন্দিরের সভাপতি শ্রী বাবু রায় বলেন,শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা-অর্চনা করছে ভক্তরা,এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে প্রত্যাসা করছি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র অ ন ম শামসুর রহমান মিন্টু বলেন, তাহেরপুর ঐতিহাসিক স্থান’ এখানে আমরা হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, আগেও একসাথে শান্তিপূর্ণপরিবেশে সবাই আমারা কাধেঁ কাধ মিলিয়ে থেকেছি এবারও আছি ভবিষ্যৎতেও এক সাথে
সকল উৎসব উৎপাদন করা হবে।

আইন শৃঙ্খলা পরিবেশ ও মন্দির পরিদর্শনে আসেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজিও, এবিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুর ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে তাহেরপুর সহ পুরো বাগমারার প্রতিটি পূঁজা মন্ডপ পুলিস ছাড়াও আনছার, সেনাবাহিনীর টহল টিম এমনকি ২৪ ঘন্টা সাস্থ্য টিম ও তৈরি আছে।